সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বীর সেনানিরাই মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ও বীর উত্তম খেতাব অর্জন করেছেন।
east bengal regiment
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে east bengal regiment বা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট হলো এক অবিচ্ছেদ্য নাম। এই রেজিমেন্ট শুধু একটি সামরিক ইউনিট নয়, বরং এটি বাঙালির সাহস, ত্যাগ এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রতীক। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই রেজিমেন্ট বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে আসছে। আজ আমরা জানব এই ঐতিহ্যবাহী "সিনিয়র টাইগার্স"-দের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।
ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির পর, পূর্ব পাকিস্তানের নিজস্ব সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলায় east bengal regiment এর প্রথম ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়। মেজর আব্দুল গনি (টাইগার গনি) এই রেজিমেন্ট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাঙালি সেনাদের নিয়ে গঠিত এই রেজিমেন্ট শুরু থেকেই তাদের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দেয়।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে east bengal regiment এর অবদান চিরস্মরণীয়। ২৬শে মার্চের সেই কালরাত্রিতে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও জয়দেবপুরে এই রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্যরাই প্রথম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
মেজর জিয়াউর রহমান, ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ এবং আরও অনেক সাহসী অফিসারের নেতৃত্বে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠে সহায়তা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মোট ৮টি নিয়মিত ব্যাটালিয়ন যুদ্ধে অংশ নেয়, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বীর সেনানিরাই মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ও বীর উত্তম খেতাব অর্জন করেছেন।
জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষায় অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস সম্পর্কে এত সুন্দর এবং বিস্তারিত তথ্য আগে কোথাও পাইনি। বিশেষ করে তাদের যুদ্ধকালীন ভূমিকা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (East Bengal Regiment) ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নকে অত্যন্ত সম্মান ও ঐতিহ্যের কারণে "সিনিয়র টাইগার্স" (Senior Tigers) নামে ডাকা হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্যরা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই তথ্যগুলো জাতীয় ইতিহাসের অংশ এবং গবেষণার উদ্দেশ্যে পরিবেশিত।